Edit Content

সম্মানিত আইনজ্ঞ ভাই ও বোনেরা,
আপনাদের সুদৃষ্টি কামনা করে একটা বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে চাচ্ছি। আমরা যারা বাংলাদেশে বসবাস করছি, তারা কমবেশী ভাল করেই জানি দেশের আইন শৃংখলা পরিস্হিতি ধর্মীয় পরিমণ্ডলে কেমন যাচ্ছে। বিশেষ করে ৯০% অধ্যুষিত মুসলিমদের ধর্মীয় কার্যক্রম যেখানে দিন দিন প্রচার প্রসার পাওয়ার কথা সেখানে বিশেষ করে সরকারের ভয়াল থাবা ও শিরক বিদআত আমাদেরকে নতজানু করে দিচ্ছে। বলতে গেলে বর্তমানে ইসলামী সংস্কৃতি নাই বললেই চলে। আমরা যে কয়জন যাও চেষ্টা চালিয়ে যাব বলে সঙ্কল্প করতে চাছি, তারাও হয়ত এক সময়ে দম হারিয়ে ফেলবো, শয়তানের জাগতিক বেড়াজালে। অশনি সংকেত হলো পরবর্তি প্রজন্মের কাছে আমরা ঋনী থাকবো সেই শেষ বিচারের ফয়সালা পর্যন্ত।

 অবহেলা-গাফিলতিতে মৃত্যু, ক্ষয়ক্ষতি ক্ষতিপূরণ দুরূহ আশরাফ উল-আলম ও রেজাউল করিম

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯২ সালে স্টিলা লাইবেক নামে ৭৯ বছর বয়সী এক নারী একদিন ম্যাকডোনাল্ড কফি হাউসে কফি পান করতে যান। হঠাৎ হাত ফসকে কাপ পড়ে তাঁর পা পুড়ে যায়। আট দিন হাসপাতালে থাকতে হয় তাঁকে। এ ঘটনায় তিনি টর্ট আইনে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন। মামলার আরজি অনুযায়ী আদালত প্রমাণ পান, ম্যাকডোনাল্ডের কফি ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার। অন্যান্য দোকানে সাধারণত ১৩৫ থেকে ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার কফি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ম্যাডোনাল্ডের অতিরিক্ত তাপমাত্রার কফির কারণে লাইবেক বেশি দগ্ধ হয়েছিলেন। এই অপরাধে আদালত ২৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেন ম্যাকডোনাল্ড কফি হাউসকে। টর্ট আইনে এটি ‘লাইবেক বনাম ম্যাকডোনাল্ড কফি হাউস মামলা’ নামে বিখ্যাত।

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের উপকূলে ডিপওয়াটার হরাইজন নামে অফশোর অয়েলের পাইপে বিস্ফোরণ হয় ২০১০ সালে, মারা যায় ১১ জন। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা হলে সংশ্লিষ্ট কম্পানিকে ৪০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। এ মামলাটিও করা হয়েছিল টর্ট আইনে।

টর্ট অর্থ হচ্ছে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার। বিশ্বের অনেক দেশে এ আইনের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে টর্ট আইন থাকলেও এর বিধি না থাকায় আইনটির কোনো প্রয়োগ নেই। তাই এ দেশে কারো দায়িত্বে অবহেলা, গাফিলতি বা অন্য কোনো অসাবধানতার কারণে কারো মৃত্যু হলে বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো নজির নেই। অথচ দেশে এ ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা অহরহ ঘটছে।

সম্প্রতি উত্তরার একটি বাড়ির গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন নিহত হয়। বনানীতে গ্যাসের পাইপলাইন বিস্ফোরণে আহত হয় ২০ জন। বিস্ফোরণে একটি বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। অথচ এ জন্য কারা দায়ী, কারা ক্ষতিপূরণ দেবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ ছাড়া ম্যানহোলে পড়ে মৃত্যু, লিফট দুর্ঘটনায় মৃত্যু, ওভারব্রিজ ভেঙে পড়ে মৃত্যু, রাস্তায় বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যু, গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাসের পাইপলাইন বিস্ফোরণে মৃত্যু বা আহত হওয়ার ঘটনা তো লেগেই আছে। এ ক্ষেত্রে টর্ট আইনের প্রচলন হলে এসব মৃত্যুর দায়ভারও যেমন নির্ধারিত হতো ও ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পেত, তেমনি এ ধরনের ঘটনাও কমত বলে বিশিষ্ট আইনজীবীরা মনে করেন।

এ ছাড়াও কেউ কাউকে শারীরিক আঘাত করলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ দেশে ফৌজদারি মামলা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে সাজা খাটতে হয়। কিন্তু যে আঘাত পেল তার কোনো সুবিধা নেই। এ ক্ষেত্রে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে টর্ট আইনে।

অবশ্য আমাদের দেশে দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য কারো অসাবধানতার কারণে কারো মৃত্যু হলে তার পরিবার দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারে। বিচারে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্ষতিপূরণও পাওয়ার কথা। তবে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের ও প্রতিকার পাওয়ার যে অধিকার রয়েছে, সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে হয় তা অত্যন্ত জটিল। আইনজ্ঞদের মত, এই প্রক্রিয়াকে সহজ করতে প্রয়োজন আইনকে যুগোপযোগী করা, আইন সংশোধন করা।

প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান আইনি অবকাঠামোর দ্বারা পরিচালিত হয়। প্রত্যেককে তার দায়িত্ব মানতে হয় আইন অনুসারে। তাদের কোনো দায়িত্বে অবহেলার কারণে যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেই ক্ষতিপূরণ তারা দিতে বাধ্য। এ ছাড়া যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দ্বারা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তার ক্ষতিপূরণ দেবে ক্ষতিকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এ বিধান প্রচলিত।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে একটি সাধারণ প্রবণতা রয়েছে, কেউ কোনো ক্ষতির দায়ভার নিতে চায় না। সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সিটি করপোরেশন তার দায় এড়িয়ে চলে। গ্যাস লাইনের কারণে কোনো ক্ষতি হলে তিতাস দায় নিতে চায় না। রাজউক, রিহ্যাব বা এ রকম আরো যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে কেউ কোনো ক্ষতির দায় নিতে চায় না।’ এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আদালতে মামলা করতে হবে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে। ক্ষতিপূরণ কে দেবে, সেটি নির্ধারণ করবেন আদালত। তবে আইনি জটিলতা দূর করে সহজ প্রক্রিয়ায় যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ পেতে পারে সেই ব্যবস্থা রাষ্ট্রের করতে হবে। এতে দায়িত্বে অবহেলা বা কোনো কাজে কেউ গাফিলতি করবে না।

বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে যেকোনো ক্ষতির জন্য দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করা যায়। কিন্তু এর প্রচলন একেবারেই কম। মামলা করতে হবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের, সরকারের নয়। মামলা না হওয়ার কারণে বারবার দোষী ব্যক্তিরা পার পেয়ে যাচ্ছে।’ সম্প্রতি উত্তরায় একটি বাড়িতে গ্যাসের লাইনে আগুন ধরে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্য মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, অবহেলাজনিত কারণে এত প্রাণ হারানোর পর একে এখন আর দুর্ঘটনা বলে ভাবার কোনো কারণ নেই। এর জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা হওয়া উচিত।

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘আমাদের দেশে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়েরের অভ্যাসটা একেবারেই কম। আমরা কথায় কথায় ফৌজদারি মামলা দায়েরে অভ্যস্ত। কারো দায়িত্ব অবহেলার কারণে দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করার বিধান রয়েছে, তবে এটির প্রচলন নেই বললেই চলে।’

শাহদীন মালিক বলেন, ‘আমাদের এ দেশে দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বিদ্যমান। এ ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলে আদালত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির সহায়তা নিতে পারেন। সেই কমিটি কোনো ক্ষতির বিষয়ে যে বা যারা দায়ী তাদের সুনির্দিষ্ট করবে। আদালত তাকেই ক্ষতিপূরণ দিতে বলবেন। আসলে আমাদের দেশের সমস্যা হলো অনেক আইন রয়েছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। দণ্ডবিধি ছাড়াও পৃথক আইনে বিভিন্নভাবে ক্ষতিপূরণেরও বিধান রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর প্রয়োগ নেই, প্রক্রিয়াও জটিল।’

ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বলেন, কোনো কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অহবহেলার কারণে কোনো ক্ষতি হলে, ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করতে পারবে ভুক্তভোগী। মানবাধিকার কমিশন তার এখতিয়ার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারের কাছে সুপারিশ করতে পারে। সরকার সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। হাইকোর্টেও রিট মামলা করা যায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে। এ ছাড়া টর্ট আইন অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারে ভুক্তভোগী। কিন্তু দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হলে অত্যধিক কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। ফলে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই আদালতে মামলা করা সম্ভব না। এ পর্যন্ত টর্ট আইনে সারা দেশে মাত্র ১২টি মামলা হয়েছে। এ আইনে মামলার রায়ের ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়।

রাজধানীর শাজাহানপুরে পাইপে পড়ে নিহত শিশু জিয়াদের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ব্যারিস্টার আবদুল হালিম। হাইকোর্ট জিয়াদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু সরকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করায় ওই আদেশ স্থগিত রয়েছে।

ক্ষতিপূরণ মামলা যেভাবে করতে হয় : দায়িত্বে অবহেলা বা অসাবধানতায় কোনো দুর্ঘটনা বা কোনো কাজের দ্বারা আহত বা নিহত ব্যক্তি বা ব্যক্তির স্বজনরা বা ওয়ারিশরা দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারে। ক্ষতিপূরণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো হার নেই। তবে দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে মামলার কার্যক্রম চলবে।

দায়িত্বে অবহেলা, ভুল চিকিৎসা ও অসাবধানে কোনো কাজ করলে কারো মৃত্যু ঘটলে বা চিরতরে পঙ্গু হলে বা আহত হলে তা অর্থ দ্বারা পরিমাপ করা যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃত ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, তার চাকরি বা তার কর্মক্ষেত্রের কাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থান, পরিবার কতটুকু ক্ষতির সম্মুখীন হয় তার যুক্তিসংগত কারণ লিপিবদ্ধ করেই ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করতে হয়। এ জন্য সরকারি কোষাগারে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট হারে কোর্ট ফি দাখিল করতে হয় বলে দেওয়ানি মামলা পরিচালনাকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান। তিনি জানান, ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য এই মামলা করতে হয়। এ জন্য সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৭৫০ টাকার কোর্ট ফি মামলার সঙ্গে দাখিল করতে হয়।

অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ বলেন, অনেক সময় অন্য কারো কাজের মাধ্যমে কেউ মৃত্যুবরণ করলে বা চিরতরে পঙ্গু হলে বা মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষে এত টাকার কোর্ট ফি দিয়ে মামলা করার সামর্থ্য থাকে না। এ কারণে ক্ষতিপূরণ মামলার প্রচলন এ দেশে নেই। এ ছাড়া আইনি প্রক্রিয়া এত জটিল যে বছরের পর বছর এসব মামলা ঝুলতে থাকে। কেউ মামলা করলে এক সময় তিনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে মামলার ভবিষ্যৎ আর এগোয় না।

এ প্রসঙ্গে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আদালতে যত বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা হবে তার জন্য তত বেশি কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। সরকারকে এ বিষয়টি সহজ করতে হবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইন যুগোপযোগী করতে হবে।

ক্ষতিপূরণ বহুদূর : দৈনিক সংবাদের সাবেক বার্তা সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন মন্টুকে ট্রাকচাপায় হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশ বেভারেজ কম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১৪ সালের ২০ জুলাই রায় দেন। হাইকোর্ট ও জজ আদালতও একই রায় দিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনার জন্য গাড়িচালকের ভুলের দায়ে মালিকের জরিমানা করা যাবে, মালিক দায় এড়াতে পারেন না—নিম্ন আদালতের এই রায় বহাল রেখে হাইকোর্ট বাংলাদেশ বেভারেজ কম্পানিকে দুই কোটি এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর আগে ২০০৫ সালের ২০ মার্চ ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. রেজাউল করিম বাংলাদেশ বেভারেজ কম্পানি লিমিটেডকে সাড়ে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে গাড়ির মালিকের কাছে কেউ ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন—এই রায়ে তাই প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরের আনন্দ ভবনের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় মোজাম্মেল হোসেন মন্টুকে কোমল পানীয়বোঝাই একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে মোজাম্মেল হোসেনের মাথা ও মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে জখম হয়। ওই অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৬ ডিসেম্বর তিনি সেখানেই মারা যান।

১৯৯১ সালের ১ জানুয়ারি মোজাম্মেল হোসেনের স্ত্রী রওশন আক্তার বাদী হয়ে তিন কোটি ৫২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে বাংলাদেশ বেভারেজ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ও ট্রাকচালক বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ১৪ বছর পর জজ আদালত রায় দেন। রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ের পর ওই কম্পানি হাইকোর্টে আপিল করে। তার পাঁচ বছর পর হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। ২০১০ সালের ১১ মে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রায় দেন। এরপর বাংলাদেশ বেভারেজ আপিল বিভাগে আপিল করে। আপিল বিভাগ রায় বহাল রাখেন। জানা গেছে ২২ বছর মামলা পরিচালনার পর যে রায় এসেছে, সে রায় এখনো কার্যকর হয়নি।

২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি মাঠে খেলতে গিয়ে রেলওয়ে ও ওয়াসার পানির পাম্পের একটি পাইপলাইনে পড়ে মারা যায় শিশু জিয়াদ। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল হালিম একটি রিট আবেদন করেন হাইকোর্টে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জিয়াদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করে। হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়।

ব্যারিস্টার আবদুল হালিম বলেন, যুক্তরাজ্য বা কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা খুব সহজে প্রতিকার পায়। আমাদের দেশে ক্ষতিপূরণের মতো ব্যবস্থা সহজে করা গেলে দায়িত্ব নিয়েই সবাই কাজ করবে। অবহেলা বা অসাবধানে কাজ করার মানসিকতা দূর হবে।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2016/04/03/343195#sthash.rMGbbr7M.dpuf

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × one =